উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন 2025 (গল্প, কবিতা, ভাষা এবং সাহিত্য) HS Bengali Suggestion 2025
Higher Secondary Bengali Suggestion 2024 | |
---|---|
বিষয় | বাংলা ও সাহিত্য চর্চা [প্রথম ভাষা বাংলা মিডিয়াম] |
পরীক্ষার তারিখ | 3,March , 2025 |
গল্প
3. দাগের প্রশ্ন।
3.1- "সেই সময় এল এক বুড়ি।"__লেখক বুড়ির সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা নিজের ভাষায়
লেখো।
Ans: সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ রচিত ‘ ভারতবর্ষ ‘ গল্পে বর্ণিত বুড়ি হল
ভারতবর্ষের অসাম্প্রদায়িকতার মূর্ত প্রতীক । বুড়ির বাহ্যিক রূপের পরিচয়ও লেখক
দিয়েছেন ।
শীতকালে বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার
জন্য মাঠের কাজ বন্ধ । চায়ের দোকানে চাষাভুসো মানুষ অলস সময় অতিবাহিত করছেন ।
এইসময় দোকানে এক বুড়ি আসে । বুড়ি থুথুরে কুঁজো ভিখিরি । রাক্ষুসী চেহারা । তার
একমাথা সাদা চুল । পরনে ছেঁড়া নোংরা কাপড় , গায়ে জড়ানো চিটচিটে তুলোর কম্বল , হাতে বেঁটে লাঠি । পিচের রাস্তা দিয়ে ভিজতে ভিজতে হেঁটে এল
। বুড়ির ক্ষীণ খর্বাকৃতি মুখে সুদীর্ঘ আয়ুর চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । দোকানে
ঢুকেই চা চাইল । এমন বয়স্কা বুড়ি কীভাবে বৃষ্টিঝরা দিনে পথে বেরোলো , তা সবাইকে অবাক করেছিল ।
বুড়িকে প্রথম দেখতে পাওয়া লেখকের বর্ণনায়
বুড়ির সম্পর্কে আরও জানা যায় যে , বুড়ি
জিজ্ঞাসু মানুষের নানা জিজ্ঞাসার উত্তর সোজাসাপটা দিতেই ভালোবাসে । বুড়ির বয়স
হলেও শরীর ,
মন , বুড়ির দৈহিক
কাঠামো কণ্ঠ যথেষ্ট দৃঢ় । বুড়ির কথায় কোনো শিথিলতা নেই , প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আক্রমণাত্মক ও দৃপ্ত ।
-------------------------------------------------------
3.2-" তারপর দেখা গেলো এক অদ্ভুদ দূশ্য।" _ এখানে দূশ্যটিকে অদ্ভুদ বলা হয়েছে কেন ? দূশ্যটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
ans. সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ বিরচিত
ভারতবর্য গল্পে হিন্দুদের দ্বারা ফেলে দিয়ে আসা বুড়িকে পুনরায় মুসলিম
সম্প্রদায়ের লােকেরা বাজার দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আর এই যাওয়ার দৃশ্যকে লেখক ‘ অদ্ভুত দৃশ্য ’ বলেছেন।
শীতের অকাল
দূর্যোগের দিনে বাজারের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার বাঁকে এক বট গাছের তলায় এক
বুড়ি আশ্রয় নেয়। কয়েকদিন পরে আকাশ পরিস্কার হয়ে গেল। কিন্তু বট তলায় সেই
বুড়িটিকে সবাই দেখল নিঃসাড় হয়ে পড়ে আছে। অনেক বেলা গড়িয়ে গেলেও বুড়ি নড়ছে
না দেখে সকলে সিন্ধান্ত নিল যে , বুড়ি মৃত। পাঁচ ক্রোশ দূরে থানা। তাই বিজ্ঞ চৌকিদার
পরামর্শ দিল ‘ – নদীতে ফেলে দিয়ে
এসাে ! ঠিক গতি হয়ে যাবে- যা হবার। আর এই ভাবেই বুড়ির মৃতদেহকে নদীর শুকনাে
ডাঙায় ফেলে দেওয়া হলাে। আর সবাই দিগন্তে চোখ রাখল। কখন ঝাঁকে ঝাকে শকুন এসে
মৃতদেহ খুবলে নেবে। অথচ বিকেলে এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখল। যারা বুড়িকে ফেলে
এসেছিল তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের। আর যারা বুড়িকে নদীর চড়া থেকে তুলে এনেছিল
তারা মুসলমান। আর এই ভাবেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ তাকে নিজ ধর্মের মনে করে
সংঘর্ষে লিপ্ত হতে শুরু করে। কোনাে পক্ষই কোনাে কর্তব্য পালন করেনি বুড়ির প্রতি
অথচ ক্ষমতা দেখানাের চেষ্টা করেছে। তাই দৃশ্যটিকে অদ্ভুত বলা হয়েছে।
3.3__"হঠাৎ বিকেলে এক অদ্ভুত দূশ্য দেখা গেল ।"অদ্ভুত
দূশ্যটি কী? দূশ্যটিকে অদ্ভুত
বলার কারণ কী ছিলো ?
Ans: কেউ কেউ মাথায় টুপি পরে আরবি মন্ত্র পড়তে পড়তে মাঠ
পেরিয়ে চ্যাংদোলা করে নদীর চড়ায় ফেলে অদ্ভুত দৃশ্য দিয়ে আসা বুড়ির মৃতদেহ
তুলে নিয়ে আসছে । এই দৃশ্যকে অদ্ভুত বলা হয়েছে ।
ঘটনার সূত্রপাত এক অজ্ঞাতপরিচয় ভিখিরি
বুড়িকে নিয়ে । দৃশ্যটি অদ্ভুত কেন শীতের অকাল দুর্যোগের দিনে বাজারের পাশ দিয়ে
চলে যাওয়া রাস্তার বাঁকে এক বট গাছের তলায় তাকে সবাই আশ্রয় নিতে দেখে ।
কয়েকদিন পরে আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে । সবাই দেখল বটতলায় সেই বুড়িটিকে নিঃসাড়
হয়ে পড়ে থাকতে । অনেক বেলা গড়িয়ে গেলেও বুড়ি নড়ছে না দেখে মনে হল সে মারা
গেছে । পাঁচ ক্লোশ দূরে থানা । বিজ্ঞ চৌকিদার বলে- ‘ ফাঁপিতে এক ভিখিরি পটল তুলেছে , তার আবার থানা পুলিশ । তাই চৌকিদারের পরামর্শে মাঠ পেরিয়ে
দু – মাইল দূরে নদীর শুকনো চড়ায়
বুড়ির মৃতদেহকে ফেলে দিয়ে আসা হল । বুড়ির শরীর উত্তপ্ত বালির মধ্যে চিত হয়ে
পড়েছিল । আর সবাই দিগন্তে চোখ রাখল , কখন ঝাকে ঝাকে শকুন এসে মৃতদেহ খুবলে নেবে । অথচ বিকেলে
তারা পরবর্তী দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত ছিল না ; একদল মানুষকে বুড়িকে নদীর চড়া থেকে তুলে আনতে দেখা গেল ।
যারা বুড়িকে ফেলে এসেছিল , তারা ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের । আর যারা বুড়িকে নদীর চড়া
থেকে তুলে এনেছিল তারা মুসলমান । দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের এই কাজের মধ্যে বয়ে
যায় অসংখ্য প্রশ্ন । হিন্দুধর্মের মানুষরা যদি বুড়িকে হিন্দু বলে ভেবে থাকে
তাহলে তার সৎকার বিধিবদ্ধ রীতিতে কেন করেনি । আর মুসলিম ধর্মের মানুষেরা যদি
নিশ্চিত ছিল বুড়ির ধর্মীয় পরিচয়ে তবে কেন তারা প্রথমেই বুড়ির প্রতি সজাগ
দৃষ্টি দেয়নি । কোনো পক্ষই কোনো কর্তব্য পালন করেনি বুড়ির প্রতি , অথচ ক্ষমতা জাহির করেছে । তাই
দৃশ্যটিকে অদ্ভুত বলা হয়েছে ।
------------------------------------------------
3.4__"ভারতবর্ষ" গল্পটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
Ans. সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভারতবর্ষ ’ গল্পটিতে এদেশের গ্রামের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। অশিক্ষা
ও অজ্ঞানতার ফলে কুসংস্কার এবং সাম্প্রদায়িকতা ভারতবর্ষকে আজও অনেক ক্ষেত্রে
পিছিয়ে রেখেছে। গল্পটিতে এই বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি লেখক গল্পের শেষে পাঠক ও
জনতাকে নিয়ে যান অসাম্প্রদায়িক এক মানবিক অনুভবে।
ভারতবর্ষ
গল্পে আমরা দেখি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ ধর্মের
নামে বিভেদ সৃষ্টি করে। মানুষের মঙ্গলের জন্য সমাজে ধর্মের উদ্ভব। কিন্তু সভ্যতার
বিকাশের সাথে সাথে বেড়েছে মানুষে মানুষে অবিশ্বাস , ঘৃণা ও হানাহানি। মহামানবরা মানুষের সাথে মানুষের মিলনের
কথা , বিশ্বাসের কথা বলেছেন ; শুনিয়েছেন ভালােবাসার বাণী।
যুগে যুগে এসবই যে বৃথা প্রয়াস ছিল তা আমরা প্রত্যক্ষ করি ভারতবর্ষ গল্পটিতে।
গল্পের প্রেক্ষাপট এক ছােট্ট জনপদ , কৃষিনির্ভর মানুষ , চায়ের দোকানে আড্ডা এবং পৌষের বাদলায় এক থুথুরে , জরাজীর্ণ বুড়ির সেখানে হঠাৎ
উদয়। এরপর বুড়ির মৃত্যু ও তার ধর্ম নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে
বিরােধ যা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নিচ্ছিল।
ভরা শীতের
টানা বৃষ্টিতে বটতলায় আশ্রয় নেওয়া বুড়ি নিঃসাড় , মৃতবৎ পড়েছিল। গ্রামের হিন্দুরা বুড়িকে মৃত মনে করে
মাচায় বেঁধে দূরে নদীর ধারে ফেলে আসে। আবার মুসলিমরা তাকে বিকেলে চ্যাংদোলা করে
নিয়ে আসে। এরপর দু’পক্ষই নিজেদের দাবির সমর্থনে যুক্তি , প্রমাণ ইত্যাদির অবতারণা করে। কিন্তু কোনােভাবেই সমস্যা
মিটে না। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে , দাঙ্গার চেহারা নেয়। আর তখনই হঠাৎ জেগে ওঠে ‘ মৃত ’ বুড়ি। উৎসাহী একজন বুড়িকে জিজ্ঞাসা করে যে সে হিন্দু না
মুসলমান। এই প্রশ্নে বুড়ি রেগে গিয়ে দু’পক্ষকেই গালাগালি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। ধর্ম নিয়ে দু’পক্ষের এই হানাহানি , বিরােধ বুড়ির কাছে
হাস্যকর মনে হয়। বুড়ির এই চরিত্রবৈশিষ্ট্য , মনােভাবের মধ্য দিয়ে লেখক সৈয়দ
মুস্তাফা সিরাজ ভারতবর্ষের প্রকৃত স্বরূপকে তুলে ধরেছেন এই গল্পে। এই গল্পের মূল।
বক্তব্যই হলাে কুসংস্কারাচ্ছন্ন , ধর্মনির্ভর কুৎসিত দেওয়ার কাহিনি। ফলে গল্পটিতে শেষপর্যন্ত
লেখক আমাদের নিয়ে যান অসাম্প্রদায়িক এক মানবিক অনুভবে।
3.5__ছোটোগল্প হিসাবে 'ভারতবর্ষ' এর সার্থকতা বিচার করো।
Ans: লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ‘ ভারতবর্ষ ‘ গল্পের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হল রাঢ়বাংলার একটি গ্রাম ।
পৌষের এক দুর্যোগময় সকালে বাজারসংলগ্ন চায়ের দোকানে এক থুথুড়ে বুড়ি এসে চা
খেয়ে গ্রামের বটতলায় গিয়ে আশ্রয় নেয় । দুর্যোগ কাটলে তাকে গল্পের বিষয়
নিঃসাড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে মৃত মনে করে গ্রামের হিন্দুরা তার দেহ বাঁশের
চ্যাংদোলায় করে নদীর চড়ায় ফেলে আসে । কিন্তু বিকেলে মুসলমান পাড়ার লোকেরা কবর
দেবে বলে , সেই বুড়িকে ফেরত নিয়ে আসে ।
মৃতদেহের ওপর অধিকারকে কেন্দ্র করে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গার উপক্রম
হয় । এসময় আচমকা , বুড়ি সকলকে বিহ্বল করে দিয়ে নড়েচড়ে উঠে বসে লোকজনের নির্বুদ্ধিতাকে
বিদ্রুপ করে হাঁটতে হাঁটতে আবছা আলোয় মিলিয়ে যায় ।
ছোট্ট আয়তনের এ
গল্পে লেখক এক অজ্ঞাতপরিচয় বুড়ির তথাকথিত মৃতদেহের ওপর অধিকারকে কেন্দ্র করে , হিন্দু – মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মান্ধতার স্বরুপটিকে ফুটিয়ে
ছোটোগল্প হিসেবে তুলেছেন । এদেশের প্রেক্ষাপটে এই অসহায় ‘ ভারতবর্ষ থুথুড়ে বুড়ি যেন লাঞ্ছিত ও অপমানিত ভারতাত্মার
প্রতীক হয়ে ওঠে । ধর্মীয় সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ এ ভারত যে , কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়
, বরং সমগ্র ভারতবাসীর — সেই বার্তাই স্পষ্টরূপে ধ্বনিত
হয় । আর এভাবেই ‘ ভারতবর্ষ ’ একটি সার্থক ছোটোগল্পে
রূপান্তরিত হয় ।
-------------------------------------------------------
3.6_"মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির অবস্থা শোচনীয়।" মিথ্যুঞ্জয়
কে ?
তার বাড়ির শোচনীয় কেন ?
সমাজ সচেতন
কথা শিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে দুর্ভিক্ষ মন্বন্তরের
পটভূমিতে লেখা ‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ গল্প থেকে প্রশ্নে প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে।
দুর্ভিক্ষ পীড়িত, অসহায়, অন্নহীন মানুষগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টায় গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয়
সংসার বিমুখ হয়ে পড়লে সেখানে নামে শোকের ছায়া। মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে তার স্ত্রী
তথা টুনুর মা একবেলা খাওয়ার বাঁচে তা বিলিয়ে দেয় ফুটপাথবাসি অন্নপ্রার্থী
মানুষদের। ফলে অল্প দিনের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে টুনুর মা, বিছানা থেকে ওঠার ক্ষমতা হারায় এসে। এ অবস্থাতেই ও সে
বাড়ির সকলকে মৃত্যুঞ্জয় খোঁজ আনতে বলে। খিদের জ্বালায়, অনাদরে, অবহেলায়
বাড়ি ছোটরা সব সময় কাঁদে, সকলের মুখেই
কাঁদো কাঁদো ভাব। এমন পরিস্থিতিতে নিখিলকে বারবার এসে পরিবেশ সামাল দেওয়ার চেষ্টা
করতে হয়।
ফুটপাথ দিয়ে
দেখা এক অনাহারে মৃত্যু স্পর্শ কাতর মৃত্যুঞ্জয়ের মনে জাগিয়ে দিয়েছিল অনন্ত
জিজ্ঞাসা। স্বার্থপর হয়ে বেঁচে বর্তে থাকা যাবতীয় জাগতিক উপাচার নিমিষে আগ্রহ
করে সে বাঁচতে চেয়েছিল দুর্ভিক্ষের শিকার সকল মানুষকেই। তাই সংসারের ক্ষুদ্র
কর্তব্যের বন্দি পেরিয়ে সে পৌঁছে গিয়েছিল বৃহৎ সমাজের বৃহত্তর সমস্যার কাছাকাছি।
শহরের আদি অন্তহীন ফুটপাথে, বিভিন্ন
লঙ্গরখানায় ঘুরে অন্নপ্রার্থী মানুষের ভিড়ে মিশে সে বুঝে নিতে চেয়েছিল- ‘কোথা থেকে কিভাবে কেমন করে সব ওলট পালট হয়ে গেল”। সবকিছু বুঝেও কিছু করতে না পারার
অক্ষমতা শেষ পর্যন্ত তাকে বদলে দিয়েছে এবং যার অনিবার্য প্রভাবে তার বাড়ির
অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠেছে।
কবিতা
4 . দাগের প্রশ্ন।
4.1_"রূপ-নারানের কুলে/জেগে উঠিলাম"_
কবির এই জেগে ওঠার তাৎপর্য আলোচনা
করো।
দীর্ঘ জীবন যুদ্ধে
ক্লান্ত অবসন্ন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যেন হৃৎচেতনা
ফিরে পেলেন,’রুপনারান’ তথা জীবন নদীর কূলে দাড়িয়ে নব প্রাণীর প্রাণিত হয়ে তিনি স্বয়ং জেগে উঠলেন.পাঠ্য কবিতায় কবি মানব জীবনের এক পরম মর্মসত্য উদঘাটন
করেছেন। মানুষ মহাজগতের এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ। বিশ্ব প্রাণের
প্রবাহের অনুমাত্র সেই আত্মপ্রাণে ধারণ করে আছে। তার জীবন,
কর্ম, ধর্ম, সজীবতা, সক্রিয়তা সবার জন্যই সে বিশ্ব প্রকৃতির কাছে ঋণী। বিশ্ব
প্রকৃতির কাছেই তার দেনা শোধ করতে হবে। ‘রূপনারায়ণ’ পশ্চিমবঙ্গের একটি নথ। তার কূলেই
রূপনারানের কুল। আবার ‘রূপনারানের’ অন্তরাথে কবির বিশেষ উপলব্ধি ও বর্তমান। কবির ব্যাখ্যায়
স্বপ্ন মধুর, সত্য কঠিন। সত্য দুঃখ যন্ত্রণা দিলেও তাই কঠিন সত্য কে ভালোবাসায় মানুষের
উচিত কাজ। ‘রূপনারান’ সেই রূপময় সত্য জগত। এ জগতে প্রাণ প্রবাহিত। এ জগতে স্বপ্নময়তার নয়,
কঠিন সত্যের। কবি এ জগতে রূপ অনুভব করতে চান। নিদারুণ
সত্যকে পেতে চান শত দুঃখ কষ্ট, সব সহ্য করেও। এ সত্য বাস্তব জগতই তার ‘রূপনারানের কূল’ ।
প্রবাহমান জীবন নদীর
কূলে কবির আত্মজাগরণ ঘটেছে। অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ কবি জগতের স্বপ্নইল আবর্তে নয়,
‘আঘাতে আঘাতে’, ‘বেদনায় বেদনায়’ নিজেকে চিনেছেন, নিজের স্বরূপ প্রত্যক্ষ করেছেন হৃদয়ের রক্তক্ষরণে।’ভালো-মন্দ যাহাই আসুক’
সত্যকে
------------------------------------------------------
সহজ করে গ্রহণ করার
হৃদয় কবি আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিলেন। তাই জীবনের শেষ লগ্নেও তিনি ‘কঠিন’ সত্যকেই ভালবেসেছেন।
বাস্তব রুদ্র,
রুক্ষ, নিষ্ঠুর হলেও তাই মানুষকে তা মেনে চলতে হয়। মানব জীবন কঠিন
সত্য কে অনুভবে উন্মখ। এই বাস্তব জগতে কবির ‘রূপনারান’ । তার কূলে জেগে
ওঠা এই বাস্তব বা সত্যের কঠিন মর্ম কে উপলব্ধি করা। ‘জেগে ওঠা’ তাই প্রকৃতার্থে কবির আত্মজাগরণ বা বোধোদয়।
4.2_"সত্য যে কঠিন"_এই উপলদ্ধিতে কবি কিভাবে উপনীত হলেন তা 'রূপনারানের কুলে'
কবিতা অবলম্বনে লেখো।
Ans: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিরচিত ‘ রূপনারানের
কূলে ‘ কবিতায় কবির উপলব্ধি সত্য , নির্মম ও কঠিন
হলেও সে কখনও বঞ্চনা করে না ।
আসলে কবি রবীন্দ্রনাথের বিশ্বাস ও জীবনদর্শনের
এক সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে পাঠ্য কবিতাটিতে । স্বপ্নের কিংবা বিভ্রমের , অস্পষ্টতা – বিচ্ছিন্নতা
এবং মায়াময় কুহক অতিক্রম করে তিনি জেগে কবির সত্যোপলব্ধি উঠেছেন , ‘ রূপ
– নারানের কূলে । তিনি যেন বলে উঠেছেন , “ প্রথম
রৌদ্রের আলো / সর্বদেহে হোক সঞ্চারিত শিরায় শিরায় ; / আমি
বেঁচে আছি , তারি অভিনন্দনের বাণী / মর্মরিত পল্লবে পল্লবে আমারে শুনিতে
দাও । ” এই রৌদ্রোজ্জ্বল স্পষ্টতায় মানবজীবনের গভীর তলদেশ পর্যন্ত
আলোকিত হয়ে উঠেছে । যন্ত্রণা – বেদনা এবং রক্তক্ষরণে পূর্ণ রুঢ় বাস্তবতার মধ্যেই তিনি
নিজের জীবনকে খুঁজে পেয়েছেন । বাস্তব অভিজ্ঞতায় কবি উপলব্ধি করেছেন , এ জীবন এক
সুদীর্ঘ দুঃখের তপস্যা । আর দুঃখের তিমির রাত্রি অতিক্রম করে , মিথ্যার কুহক
ছিন্ন করে সত্যকে অর্জন করতে হয় , সে অনেক দুঃখ ও দাবি নিয়ে আসে । সাহসে ভর করে সত্যের দারুণ
মূল্যকে লাভ করতে হয় । সত্য কঠিন এবং সেই কঠিনকেই কবি ভালোবেসেছেন । কারণ সত্য
কখনও বঞ্চনা করে না । এজন্যই কবি গভীর বিশ্বাসভরে বলেছিলেন , “ সত্যেরে
সে পায় / আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে । ”
4.3_"মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে"_
বক্তা কে?
'মৃত্যুতে সকল দেনা'
বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
সে 'দেনা' কিভাবে শোধ করতে চেয়েছিলেন কবি ?
Ans:
উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন স্বয়ং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
মৃত্যুর মাধ্যমে এ জগতের সব ঋণ শোধের কথাই বলা
হয়েছে । কবি জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমার
শেষে প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করেছেন । আঘাতে আঘাতে বেদনায় বেদনায় নিজেকে চিনেছেন
। তিনি জেনেছেন— “ এ জগৎ স্বপ্ন নয় । ‘
দীর্ঘ জীবনে সুখ – দুঃখ , আনন্দ – বেদনার স্বরূপ চিনেছেন । জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শুধু
দুঃখের তপস্যা । এই সত্যকে তিনি জেনেছেন । সত্য কখনও কাউকে বঞ্চনা করে না । কঠিন
সত্যের কাছে সবাইকে আত্মসমর্পণ করতে হয় । জীবিত অবস্থায় এই জগতের কাছ থেকে অনেক
কিছু কবি গ্রহণ করেছেন , তাই তিনি জগতের কাছে ঋণী । সেই ঋণ শোধ করার সাধ থাকলেও
সাধ্য কবির নেই । মহাকালের হাতে নিজেকে সমর্পণ করে দিয়ে কবি সকল ঋণ শোধ করতে চান ।
------------------------------------------------------
4.4__"একটা অদ্ভুত শব্দ ।"শব্দের উৎস কী ?শব্দটি অদ্ভুত কেন? শব্দের পরেই কবি কোন ঘটনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ?
Ans:
কবি জীবনানন্দ দাশ বিরচিত ‘
শিকার ’ কবিতার অন্তর্গত প্রশ্নোদৃত অংশে হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে
কোন শব্দ ? লোলুপ শহুরে মানুষের নিক্ষিপ্ত গুলির শব্দের কথা বলা হয়েছে ।
শান্ত অরণ্যানীর স্নিগ্ধ পরিবেশে যান্ত্রিক
শব্দটি অচেনা ও অশ্রুতপূর্ব । তাই গুলির শব্দটি ‘
অদ্ভুত ‘ ।
হিংস্র চিতাবাঘিনির হাত থেকে বাঁচার দুরস্ত
তাগিদে একটি সুন্দর বাদামি হরিণ মেহগনির মতো নক্ষত্রহীন অন্ধকারে সুন্দরী বন থেকে
অর্জুনের বনে আত্মগোপন করে অবশেষে প্রার্থিত ভোরে নেমে এসেছিল । বাতাবিলেবুর মতো
সবুজ সুগন্ধি ঘাস ছিঁড়ে খেয়ে বিনিদ্র রাত্রির ক্লান্তি ও অবসন্নতা মুছে ফেলতে ,
সে অবগাহনে নেমেছিল নদীর তীক্ষ্ণ শীতল তরঙ্গায়িত জলে । এমন
সময় নির্জন অরণ্যভূমির হিরণ্ময় নীরবতা ভঙ্গ করে একটা ‘
অদ্ভুত শব্দ ‘ । নদীর জল নিমেষে
রক্তরঞ্চিত হয়ে মচকাফুলের পাপড়ির বর্ণ ধারণ করে । অচেনা আততায়ীর অপ্রত্যাশিত
গুলিতে প্রাণচঞ্চল হরিণ ‘ নিস্পন্দ নিরপরাধ ঘুম ’
– এ ঢলে । পড়ে । তাদের জান্তব
উল্লাসে রসনা পরিতৃপ্তির জন্য সুন্দর বাদামি হরিণ নিষ্প্রাণ মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়
। হিংস্র চিতাবাখিনির চেয়েও হিংস্রতম মানুষের ভোগবাসনায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের
চিরন্তন প্রতীক হরিণটির অপমৃত্যু যেন সভ্যতার অভিশাপ ।
নাটক
5.
দাগের প্রশ্ন।
5.1_"আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ' অভাব নাটক' ।"_ অভাবের চিত্র ' বিভাব ' নাটকে কিভাবে প্রকাশ
পেয়েছে লেখো ।
Ans: বহুরূপী নাট্যদলের এক
কালোত্তীর্ণ প্রযোজনা হল ‘ বিভাব ‘ । শম্ভু মিত্রের মতে , এক ভদ্রলোক পুরোনো নাট্যশাস্ত্র
ঘেঁটে নাটকটির এরকম নামকরণ করেছিলেন । সংস্কৃত মতে , ‘ বিভাব ’ হল মানুষের মনে রসনিষ্পত্তির কারণ । কিন্তু নাটককার জীবনের
বাস্তবতায় দেখেছেন এই নামের বিপরীত ছবি । সেখানে তাঁদের নিত্যসঙ্গী হল অভাব । তাই
শম্ভু মিত্রের মনে হয়েছে এর নাম ‘ অভাব নাটক ’ হওয়াই উচিত ছিল । কারণ ‘ বিভাব ‘ – এর জন্মই হয়েছে দুরন্ত অভাব থেকে । তাদের ভালো মঞ্চ , সিনসিনারি , আলো , ঝালর — এসব কিছুই নেই । আর্থিক সংগতি নেই । তা সত্ত্বেও জোগাড় – যন্ত্র করে যদি অভিনয়ের
বন্দোবস্ত করা হয় , তাহলে সরকারি পেয়াদা খাজনা আদায় করতে এসে হাজির হয় । সরকারের চূড়ান্ত
অসহযোগিতা এবং সব ধরনের প্রতিকূলতার বিচিত্র সাঁড়াশি চাপে জেরবার হয়েও , তাদের মন থেকে যায় না ভালো নাটক
করার অদম্য ইচ্ছা ।
প্রথাগত নাটকের ব্যাকরণ ভেঙে শুধু অভিনয়কে
পুঁজি করেই । প্রয়োগ ও ভঙ্গিনির্ভর ‘ বিভাব ‘ – এর জন্ম হয় । তাঁরা সব রকমের অভাবকে অতিক্রম করে যান ভাবনা
, দৃষ্টিভঙ্গি আর আঙ্গিকের সৌকর্যে
। এভাবেই সমকালীন পরিস্থিতির প্রতি তীব্র ব্যঙ্গা এবং তা থেকে মুক্তির অভিনব
দিগন্ত উদ্ভাসিত হয়েছে শম্ভু মিত্রের বক্তব্যে ।
-------------------------------------------------------
5.2_"বুদ্ধিটা কী করে এল তা বলি ।" _ কোন বুদ্ধি এবং তা কিভাবে এল __ নাট্যকারকে অনুসরণ করে আলোচনা করো।
Ans: ‘ বিভাব ‘ নাটকের সূচনায় শম্ভু মিত্র গ্রুপ থিয়েটারের দলগুলির
বিভিন্ন সমস্যার দিকে আলোকপাত করেছেন । নাটকের জন্য যা যা একান্ত প্রয়োজন অর্থাৎ
মঞ্চ – সাজসজ্জা – আলো- এর কোনো কিছুই তাদের নেই ।
সেইসঙ্গে রয়েছে কোন বুদ্ধি সরকারের ঔদাসীন্য , চূড়ান্ত অসহযোগিতা ও সরকারি খাজনার রক্তচক্ষু ; তাই দুরন্ত অভাবই তাঁদের
নিত্যসঙ্গী । কিন্তু এসব বাধা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নাটকের প্রতি অদম্য
ভালোবাসাকে পাথেয় করে তাঁরা এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজেছেন । সেখান
থেকে বের হওয়ার বুদ্ধির কথাই বলেছেন ।
শম্ভু মিত্র দেখেছিলেন পুরোনো বাংলা নাটকে
রাজা রথে । আরোহণ করার ভঙ্গি করলেন । অর্থাৎ ভক্তির মাধ্যমে নাটককে এগিয়ে নিয়ে
যাওয়ার কথা বলা আছে পুরোনো নাটকে । এর ফলে রথেরও দরকার হত না , ঘোড়ারও দরকার হত না । শুধু
অভিনয়ের মাধ্যমে নাট্যঘটনা ফুটিয়ে তোলার প্রথা আগে থেকেই ছিল । যেমন ওড়িয়া
যাত্রায় দ্রুত পায়ের ফাঁকে লাঠি গুঁজে ঘোড়ায় চড়ার ভঙ্গিতে যাওয়ার ও আসার
দৃশ্যকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তোলে । ঠিক একইভাবে মারাঠি তামাশায় এক চাষি
জমিদারের কাছে কাকুতিমিনতি করে ব্যর্থ হয়ে মন্দিরে গেলে , সেই জমিদারই গোঁফ – দাড়ি এঁটে পুরুষের অভিনয় করে । এভাবেই দর্শকের অনুভূতি ও
কল্পনার সাহায্য নিয়ে ভঙ্গিনির্ভর অভিনয়ের দেশীয় ঐতিহ্যকে নতুন আঙ্গিকে পরিবেশন
করার ‘ বুদ্ধি ’ বা ‘ প্যাচ ‘ – কে অবলম্বন করেই ‘ বহুরূপী ‘ বাংলা নাটকে অনাড়ম্বর আর প্রয়োগ । কৌশলনির্ভর নাট্যরীতির
এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল ।
5.3__"পৃথিবীতে সবচেয়ে পপুলার জিনিস হচ্ছে প্রেম ।" __এই মন্তব্যর পসঙ্গ উল্লেখ করো । নাট্যবিষয়ে এই মন্তব্যতি
কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো
Ans: শম্ভু মিত্র হাসির নাটকের উপাদান
জোগাড় করতে অমর গাঙ্গুলির বাড়িতে এসে উপস্থিত হন । কারণ দলের সম্পাদকের মতে
হাসির নাটকের বিরাট বক্স অফিস । কোমর বেঁধে হাসানোর চেষ্টার তাগিদে শম্ভু মিত্র
নানান অঙ্গভঙ্গি করেন । কিন্তু অমর গাঙ্গুলি স্পষ্টই জানিয়ে দেন , মানুষের আগ্রহ কিংবা জনপ্রিয়তার
শর্ত না – মানলে খামোখা মানুষ হাসে না ।
তখন বৌদি তৃপ্তি মিত্র পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় বিষয় প্রেম হওয়ায় , প্রেমের দৃশ্যে অভিনয়ের
পরিকল্পনা করেন । সেখানে নায়ক – নায়িকার ধাক্কাধাক্কি , নায়িকার রাগ , গাছের ডাল ধরে গান গাওয়ার বিভিন্ন কল্পিত দৃশ্য অভিনীত হয়
। কিন্তু শম্ভু মিত্র ও অমর গাঙ্গুলির হাসি পায় না । এখানে লক্ষণীয় , প্রেমের দৃশ্যকে অবলম্বন করে
বাণিজ্যিক ছবিতে যেভাবে প্রেমের নামে সস্তা ভাঁড়ামোকে দর্শকের সামনে পেশ করা হয় , ‘ বিভাব ’ নাটকে অবিকল তাই ঘটে । আসলে ‘ প্রেম ‘ – এর ধারণার বিকৃতি ঘটিয়ে এভাবেই মানুষের রুচির অবক্ষয়
ঘটানো হয় । শম্ভু মিত্রের লেখায় ‘ ফিল্মি কায়দা ‘ , ‘ ন্যাকামির ভঙ্গি ’ , ‘ জখমি লভ সিন ‘ প্রভৃতি শব্দবন্ধগুলি পপুলার প্রেমের নামে তামাশার এই
ভ্রান্ত চর্চাকেই তীব্র শেষ ও বিদ্রূপে বিদ্ধ করে ।
--------------------------------------------------------
5.4__"বিভাব" নাটকে শম্ভু মিত্রের নাট্যভাবনার যে পকাশ ঘটেছে
তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো ।
Ans: নাট্যবিষয়ের সঙ্গে নাট্যসংলাপ
পরস্পরের পরিপুরক হয়ে উঠলে তবেই নাটক শিল্পসার্থক হয়ে ওঠে । তাই ‘ বিভাব ‘ – এর মতো শ্লেষধর্মী বিদ্রুপাত্মক নাটকের সংলাপের ক্ষেত্রে
শম্ভু মিত্র বুদ্ধিদীপ্ত , শানিত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাষার ব্যবহার সংলাপ রচনার দক্ষতা
ঘটিয়েছেন । এ নাটকে ভাষার অনেকগুলি স্তর আছে । যেহেতু নাটকের চরিত্রেরা তাঁদের
বাস্তব পরিচয় নিয়েই মঞ্চে হাজির হয় , তাই নাট্যকার সচেতনভাবেই এমন সংলাপ রচনা করেন , যাতে চরিত্র তিনটি বাস্তব হয়েও
একইসঙ্গে নাটকের চরিত্র হয়ে ওঠে ।
নাটকের সূচনায় শম্ভু মিত্র ঘরোয়া আলাপচারিতার
ঢঙে যে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন , তা কৌতুক – রসবোধ ও শ্লেষে পরিপূর্ণ । কারণ তাঁর লক্ষ্য ঔপনিবেশিক
শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির মর্মে আঘাত করা । আবার নাটক শুরু হলে
প্রত্যেকের সংলাপ হয়ে ওঠে । সংক্ষিপ্ত , সংযত এবং দ্বন্দ্বময় । এজন্যেই প্রেমের দৃশ্যে ‘ বার্থরেট কী হাই ! ’ – এর সঙ্গে পরে ‘ বিয়ের দু’বছরের মধ্যে গফট্ – এর মতো সংলাপ বক্তব্যকে একইসঙ্গে
তীক্ষ্ণতা ও তির্যকতা দেয় । আবার নায়িকা কিংবা পুলিশের মুখে প্রচলিত হিন্দি বুলি
চরিত্রগুলিকে জীবন্ত করে তোলে । পুলিশের প্রসঙ্গে যখন স্বয়ং শম্ভু মিত্র বলে ওঠেন
, ‘ পুলিশ আসছে । ‘ তখন নাটক যেন জীবনের অন্তর্গত
হয়ে যায় । এভাবেই সমাজজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে নাট্যকার দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ
করে দর্শকমনে চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিতে সফল হয়েছেন ।
5.5__একাঙ্ক নাটক হিসাবে "বিভাব" কটখানি সার্থক তা
আলোচনা করো।
Ans: একাঙ্ক নাটক হল একটি অঙ্কে সমাপ্ত হওয়া নাটক । একটিমাত্র
সংক্ষিপ্ত কাহিনি নিয়ে একমুখিন গতিতে খুব দ্রুত চরম পরিণতির দিকে পৌঁছোবে
নাট্যকাহিনি । একাঙ্ক নাটকের আঙ্গিক নাটকে চরিত্র সংখ্যাও কম হবে । এই বৈশিষ্ট্যের
নিরিখে আমরা ‘ বিভাব ‘ নাটকটি বিচার করব ।
‘ বিভাব ‘ নাটকে দলের সম্পাদকের ইচ্ছাপূরণ করতে হাসির নাটকের খোরাক
খুঁজতে তৎপর হন শম্ভু মিত্র , অমর গাঙ্গুলি এবং তৃপ্তি মিত্র । শম্ভু মিত্রের চেষ্টা
ব্যর্থ হলে তৃপ্তি মিত্রের পরিকল্পনায় ‘ লভ সিন ’ এবং ‘ প্রগ্রেসিভ লভ সিন ’ – এর দৃশ্য ‘ বিভাব ‘ নাটকের নাট্যগতি অভিনীত হয় । কিন্তু অমর গাঙ্গুলি ও শম্ভু
মিত্রের এসব দেখেও হাসি পায় না । তখন তাঁরা সত্যিকারের জীবনকে উপলব্ধি করতে চার
দেয়ালের বাইরে বেরিয়ে আসেন । যদিও শহরের ব্যস্ত রাজপথে হাসির কোনো রসদই চোখে
পড়ে না । এমন সময় ভাত – কাপড়ের দাবির জোরালো আওয়াজে মুখর একটি মিছিল এগিয়ে আসে ।
মিছিল আটকাতে পুলিশ গুলি চালায় । একটি ছেলে ও মেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে । অসহায়
– বিপন্ন শোভাযাত্রীদের গোঙানির আর
হাহাকারের আওয়াজ ভেসে আসে । শম্ভু , অমর ও বৌদি তৃপ্তি মিত্র এই স্বল্পসংখ্যক চরিত্র নিয়ে
একমুখিন গতিতে কাহিনি এগিয়ে যায় এবং চরম মুহূর্ত হিসেবে শোভাযাত্রীদের ‘ চাল চাই , কাপড় চাই , ‘ দাবি এবং
সার্জেন্টের নির্দেশে শোভাযাত্রীদের দিকে কল্পিত বন্দুক থেকে গুলি চালানো এবং একটি
ছেলে মেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে । পুলিশ মার্চ করতে করতে চলে যায় । এরপর সারা স্টেজ লাল
আলোয় ভরে যায় । তারপর অমর দৌড়ে এসে আহত মেয়েটির মাথায় হাত দিয়ে থাকে ঠিক
তখনই শম্ভু মিত্র স্টেজে ঢুকে অমর এবং দর্শককে জিজ্ঞাসা করে ‘ আর হাসি পাচ্ছে কিনা ? ’ এক অঙ্কের সংক্ষিপ্ত
কালসীমায় জীবনের কঠিন – কঠোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন নাট্যকার । তাই একাঙ্ক নাটক
হিসেবে শম্ভু মিত্র – এর বিভাব নাটক সার্থক ।
------------------------------------------------
অন্তর্জাতিক কবিতা ভারতীয় গল্প।
6.
দাগের প্রশ্ন।
6.1_" ভারত জয় করেছিল তরুণ আলেকজেন্ডার ।/একলাই না কি?
" আলেকজেন্ডারের পরিচয়
দাও । এই প্রশ্নের মাধ্যমে বক্তা কী বলতে চেয়েছেন তা নিজের ভাষায় প্রকাশ করো।
Ans: গ্রিক সম্রাট আলেকজান্ডার ম্যাসিডনের রাজা ছিলেন। তার বাবার নাম ছিল ফিলিপ।
তিনি ৩২৬ খ্রি: পূর্বাব্দে হিন্দু নদ অতিক্রম করে ভারত আক্রমণ করে।
¤ কবি ব্রেখট বিভিন্ন ঐতিহাসিক কাহিনীর আড়ালে সাধারণ মানুষের
অতুলনীয় অবদানের দিকটিকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন তার কবিতায়। সমর কৃশলী গ্রীক
বীর আলেকজান্ডারের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তার পারদর্শিতায় রাজা
দরবেশ থেকে সকলেই পরাজিত হয়েছিলেন। ছোট ছোট রাজ্যের রাজারা বিনা যুদ্ধেই বশ্যতা
স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু আলেকজান্ডারের এই সাফল্য শুধুমাত্র তার বীরতা জন্য হয়নি
এই সাফল্যের মূল কারণ ছিল তার সুদক্ষ ও সাহসী বিপুল সৈন্যদল।
¤ কারণ একলা আলেকজান্ডার এর পক্ষে ইতিহাসের নায়ক হওয়া সম্ভব
ছিল না।। ঠিক তেমন যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী গণ জাতিকে পরাজিত করা জুলিয়াস সিজারের
পক্ষে অসম্ভব ছিল। নিদেন একটা রাঁধুনি ছিল। বলার মধ্য দিয়ে সিজারের যুদ্ধ জয়ে
অসংখ্য মানুষের কৃতিত্বের বিষয়টিকে খুবই স্পষ্ট করেন। অথচ ইতিহাসের পাতায় সব
সময় ক্ষমতাবান ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যেকোন
সাফল্যের মূলে লুকিয়ে থাকা সাধারণ মানুষের কথা উপেক্ষিতই থেকে যায়। প্রশ্নধৃত
অংশটি মজুরের জিজ্ঞাসার মাধ্যমে ইতিহাসের এই অন্ধকার দিকটিকেই আলোকপাত করে।
6.2___ চীনের প্রাচীর যখন শেষ হলো সেই সন্ধ্যায় কোথায় গেল
রাজমিস্ত্রিরা মধ্য দিয়ে কবি কোন সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন তা আলোচনা করো।
Ans :বের্ল্টল ব্রেখটের
"পড়তে জানে এমন এক মজুরের প্রশ্ন" কবিতায় বলা হয়েছে বহুদিন কায়িক
পরিশ্রম করে রাজমিস্ত্রিরা গড়ে তুলেছিল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের এক নজির চীনের
প্রাচীর।
চীনের প্রাচীরঃ- চীন সম্রাট সিন সিং হুয়াং এর আমলে
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতক থেকে শুরু হয়েছিল চীনের প্রাচীর নির্মাণের কাজ। প্রধানত
বহিঃশত্রুর আক্রমণের হাত থেকে নিজের সভ্যতাকে রক্ষা করার জন্য তিনি এই প্রাচীরের
কাজ শুরু করেন। যা দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে গড়ে তোলেন শ্রমিকেরা। এর উচ্চতা ছিল ৫
থেকে ৮ মিটার ও দৈর্ঘ্যের প্রায় ৬৫৩২ কিলোমিটার। পরবর্তীকালে মিসং বংশের আমলে
পুনর্গঠিত হয়। মঙ্গলদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য প্রাচীরের উপর ২৫০০০ ওয়াস
টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। এই ঐতিহাসিক নিদর্শন তৈরি নেপথ্যে রাজমিস্ত্রিদের অবদান
রয়েছে। অথচ ইতিহাসে এদের কোনো অবদানের পাতা নেই।
কবির বক্তব্যঃ- সমাজ সচেতন কবি জানেন মানব সভ্যতার অগ্রগতি
এবং সংস্কৃতির বিকাশে প্রত্যক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করে শ্রমজীবী শ্রেণী, রাষ্ট্রনায়করা নয়। তবুও গতানুগতিক ইতিহাসের পাতায় তারা
চরম অবহেলিত। মানব সভ্যতার প্রকৃত ধারক ও বাহক হলেও রাজমিস্ত্রীরা কর্মযজ্ঞ শেষ
হলে বিস্তৃতির অতলে নাগরিক সভ্যতার বঞ্চনার অন্ধকারে আত্মগোপন করে। মন্তব্যঃ-
উদ্ধৃত উক্তিতে কবি বলেছেন, পড়তে জানা
মজুরের অধিকারহীন শ্রেণীর প্রতিনিধি
হিসেবে
----------------------------------------------
নাগরিক সমাজকে
প্রশ্ন করেছে । এই প্রশ্নের আড়ালে নিহিত রয়েছে সমাজের শ্রমজীবী শ্রেণীর প্রতি
উচ্চবিত্তের চিরকালীন বঞ্চনার ইতিহাস।
6.3__ এটাকে ভগবানের আভিপ্রায় বলেই মেনে নাও ।“ __কোন পসঙ্গে কে মন্তব্যটি করেছিলেন ? বক্তার কি কোনো কাজ হয়েছিল ? এই বিষয়ে বক্তাকে এরপরে কি ভুমিকা নিতে হয়েছিল ?
6.4___ “চোখের জলটা
তাদের জন্য
।“ বক্তা
কাদের জন্য
চোখের জল
উৎসর্গ করেছেন ? যে ঘটনায় বক্তার
চোখে জল
এসেছিল সে
ঘটনাটি সংক্ষেপে লেখো ।
Ans ::কোন কিছুর পরোয়া না করে,
জীবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে যারা ট্রেন থামিয়ে ক্ষুদা –
তৃষ্ণায় কাতর দেশবাসীকে রুটি ও জল পৌঁছে দিয়েছিল তাদের
জন্য আলোচ্য গল্পের লেখক কর্তার সিং দুগ্গাল তার চোখের জলকে উৎসর্গ করেছেন।
¤ দেশের স্বাধীনতা পিপাসি ভারতীয়দের উপর ফিরিঙ্গিরা নির্দয়া
ভাবে গুলি চালিয়েছিল এবং বাকিদের তার অদ্ভুত অবস্থায় অন্য শহরে জেলে
স্থানান্তরিত করার জন্য ট্রেনে করে নিয়ে যাচ্ছিল। খবরটি পেয়ে পাঞ্জা সাহেবের
মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। যে পাঞ্জা সাহেবের গুরু নানক তার শিষ্য মর্দনের জল
পৃষ্ঠায় পেয়ে ছিল । সেই শহরের উপর দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের তারা অভুক্ত
অবস্থায় নিয়ে যেতে দেবে না । তারা স্টেশনে বিভিন্ন খাবারের ব্যবস্থা করে এবং
স্টেশন মাস্টারকে আবেদন জানায় ট্রেনটিকে একটু সময়ের জন্য থামানোর। কিন্তু কোন ফল
ভালো না দেখে তারা ছেলে বুড়ো মহিলা সবাই সারিবদ্ধ ভাবে রেল লাইনে শুয়ে পড়ল।
তীক্ষ্ণ বাঁশি বাজিয়ে ট্রেনটা এলো এবং কয়েকজনের বুকের উপর দিয়ে গেল তার চাকা।
তারপর ট্রেনটি থামালো। পাশে সাহিত্য থাকা সকলের মুখ থেকে উঠছে ‘
জয় নিরঙ্কার ‘ ধনী। খাল পাহাড়ের সেতুর দিকে রয়ে যাচ্ছে রক্তের স্রোত।
লেখক অবাক বিহুল্য বসেছিলেন মুখ থেকে একটি বাক্য বেরোয় না। এই গল্পটি লেখকের
মায়ের বান্ধবী শুনিয়েছিল। সন্ধ্যার সময় তার মা যখন ছোট বোনকে পাঞ্জা সাহেবের
গল্পটি বলেছিল তখন কাহিনীটি শুনতে শুনতে অভির্ভূত সরব্যাথী লেখকের চোখে জল ভরে
এলো। লেখক তার চোখের জল টুকু উৎসর্গ করলেন সেই সমস্ত দেশ বাসীদের উদ্দেশ্যে।
পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ ।
7. দাগের
প্রশ্ন।
7.1___ “আর এক-রকমের প্রথা আছে __নানকার প্রথা।“ __নানকার পজাদের আবস্থা
কেমন ছিল ? পরে তাদের আবস্থার কি
পরিবর্তন হয়েছিল ?
Ans :নানকার প্রথা-
সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'ছাতির বদলে হাতি' প্রবন্ধে গারো পাহাড়ের অধিবাসীদের ওপর মহাজনী অত্যাচার
ছাড়াও জমিদারের নানকার প্রথার জুলুমের খন্ডচিত্র
অঙ্কন করা হয়েছে। নানকার প্রথার দ্বারা জমিদাররা অকথ্য অত্যাচার চালাত।
জমিদারদের এই প্রথায় আবদ্ধ প্রজাদের অবস্থা সাধারণ প্রজাদের চেয়েও দুর্বিষহ ছিল।
এই প্রজাদের কোনো জমির মালিকানা ছিল না।
এমনকি আম-কাঁঠালের অধিকারটুকুও তারা পেত না।
জমি জরিপের পর
--------------------------------------
আড়াই টাকা পর্যন্ত
খাজনা দিতে হতো প্রজাদের। মহাজন তাদের থেকে একমনে দুই মণ ধান আদায় করতো। জমিদার ও
মহাজনদের অত্যাচারের ভিন্ন ভিন্ন প্রথার
মধ্যে কঠোর প্রথা ছিল নানকার প্রথা। প্রজারা জমিদার'দের খাজনা দিতে না পারলে তহশিলদার তাদের কাছারিতে ধরে আনতো।
তাদের পিছমোরা করে বেঁধে মালঘরে আটকে
রাখত। তারপর নিলামে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে খাজনা আদায় করতো পাওনাদারেরা। এছাড়াও চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নিয়ে চাষীদের
সম্পত্তি কেড়ে নিতো।এরূপ অত্যাচারের খন্ড চিত্র লক্ষ করা যায় আলোচ্য প্রবন্ধে।
- এভাবে অত্যাচার
সহ্য করার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল প্রজাদের
। কিন্তু গারো পাহাড়ের নীচে গড়ে ওঠা লাল নিশান তাদের অধিকারের লড়াই শিখিয়েছিল।
তাই নওয়াপাড়া, দুমনাপাড়া , ঘোষপাড়া এবং ভুবনকুড়ার চাষিরা বিদ্রোহে জেগে ওঠে। তাদের জেদের কাছে পরাজয়
শিকার করে পুলিশ ও কাছাড়ির জমিদার। এভাবে সাম্যবাদী ভাবনায় উদ্দীপ্ত হয়ে
কমিউনিস্ট আদর্শে মানবতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে প্রজারা নানকার প্রথা বন্ধ করেছিল।
ভালো হাল -বলদ এর অভাবে প্রজারা হতাশ না হয়ে মিলিতভবে জমি চাষ করতে শুরু করল।
পাথুরে রুক্ষ ও শক্ত মাটিতে চাষ করা কষ্টকর হলেও স্বাধীনতার আনন্দের কাছে তা
সামান্য। ধীরে ধীরে তারা সভ্য হয়ে ওঠে। আজকে দারোগা পুলিশ পর্যন্ত তুই তোকারি করে
কথা বলার সাহস পায়না তাদের সঙ্গে। বরং চেয়ার ছেড়ে তাদের বসতে দেয়। এভাবেই গারো
চাষীরা নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে শেখে।
7.2__”মেঘের গায়ে জেলখানা।বিশ্বাস হয় না ? দেখে এসো বক্সায়”___ লেখকের এই বক্সায় যাত্রাপথের
বর্ণনা দাও ।
Ans :সুভাষ
মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের ‘মেঘের গায়ে জেলখানা’ পরিচ্ছদে বক্সার
জেলখানা যে পরিচয় পাওয়া যায় তা হল-
প্রাকৃতিক পরিবেশ: এই জেলখানা সম্পর্কে লেখক বলেছেন ‘পাহাড়ের তিনতলা সমান একটা
হাঁটুর উপর’ দাঁড়িয়ে। দূর থেকে দেখে মনে
হবে জেলখানাটা যেন ‘মেঘের গায়ে হেলান’ দিয়ে রয়েছে।
জেলখানার গঠন: পাথরের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে দেখা যাবে লোহার
ফটক। ফটক পেরিয়ে বাঁদিকে অফিস, কোয়ার্টার এবং সেপাইদের ব্যারাক। তিনটে ফটক পেরিয়ে জেলের
অন্দরমহল। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে পাথরের দেওয়াল আর কাঠের ছাদওয়ালা ঘরে থাকে কয়েদিরা।
সমস্ত জেলখানাটা কয়েকটি ইয়ার্ডে বিভক্ত। একেকটি ইয়ার্ডে একেকরকমের অপরাধীরা থাকে।
ব্যবস্থাপনা: গলায় একটা চাবির রিং ঝুলিয়ে প্রহরারত সেপাই
গেটগুলি খুলে খুলে কয়েদিদের ভেতরে ঢোকায় আর বার করে।
কয়েদিদের
জীবনযাত্রা: জেলখানার প্রাত্যহিক সমস্ত কাজ করতে হয় কয়েদিদের। ‘জুতো সেলাই
থেকে চন্ডীপাঠ’ সমস্ত কাজ করেও সামান্য ভুলত্রুটি হলে তাদের উপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন।
7.3 __”সেদিকে তাকিয়ে চোখের পলক পড়তে চায় না, যুগ যুগ ধরে দাঁড়িয়ে
দেখতে ইচ্ছে করে সেই দৃশ্য ।“ –কোন দৃশের কথা বলা হয়েছে ?লেখকের যাত্রাপথের বর্ণনা
দাও । 7.2 ans .
------------------------------------------------
শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির
ইতিহাস
8.দাগের
প্রশ্ন ।
8.1__”বাংলা গানের ধারায় কাজি
নজরুল ইসলামের অবদান সম্পর্কে সংক্ষেপে
আলোচনা করো ।
Ans : রবীন্দ্র-পরবর্তী
বাংলা গানের মন্দিরে বৈচিত্র্যের ডালি হাতে নিয়ে আবির্ভূত হন নজরুল। সংগীতকার
হিসেবে তাঁর প্রতিভার স্ফুরণ ঘটেছিল ১৯২৮ থেকে ১৯৪২, প্রায় ১৪ বছর।
এই সময়কালে নজরুল প্রায় ৩২৪৯টি গান রচনা করেন। আলোচনার সুবিধার্থে তাঁর গানগুলিকে
কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে আলোচনা করা যায়-
[১] প্রেম ও প্রকৃতি: নজরুলের অধিকাংশ গানেরই বিষয়ভাবনা
প্রেম ও প্রকৃতি। ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রানি’ বা ‘আমি চিরতরে
দূরে চলে যাব’ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
[২] ঋতু সংগীত:
তাঁর যে-গানগুলিতে ঋতু প্রসঙ্গ এসেছে সেগুলি হল- ‘এসো শারদ
প্রাতের পথিক’, ‘বর্ষাঋতু এল বিজয়ীর সাজে’ ইত্যাদি।
[৩] রাগাশ্রয়ী
গান: বিভিন্ন রাগরাগিণীর ব্যবহার করে নজরুল অসংখ্য গান রচনা করেছেন। এ ছাড়া নিজে
বেশকিছু রাগ উদ্ভাবন করেছেন। এক্ষেত্রে ‘ভোরের হাওয়া এলে’, ‘অঞ্জলি
লহ মোর’ প্রভৃতি উল্লেখ্য।
[৪] লোকসংগীত: লোকসংগীতের আঙ্গিকে বাঁধা তাঁর গানগুলি
অনবদ্য। তা ছাড়া লেটোর গান ও সঙের গানও উল্লেখযোগ্য। এ প্রসঙ্গে ‘ওই রাঙামাটির
পথে লো’, ‘পদ্মার ঢেউরে’ প্রভৃতি গানগুলির কথা উল্লেখ করা
যায়।
[৫] স্বদেশ সংগীত: নজরুলের এই গানগুলি ইংরেজ শাসকের রাতের
ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। ‘কারার ওই লৌহ কপাট’, ‘চল
চল চল’, ‘দুর্গম গিরি’ প্রভৃতি গানগুলি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
বিশিষ্টতা ও
বৈচিত্র্য
এ ছাড়াও নজরুল গজল, ইসলামিক সংগীত
ও ভক্তিগীতিও রচনা করেছিলেন। তাঁর হাস্যরসাত্মক গান, প্যারোডি গান, হিন্দি গান এবং
কোরাস ও মার্চ সংগীত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বিদেশি সুর গ্রহণেও ছিলেন
সিদ্ধহস্ত, যেমন- ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ (কিউবানসুর)। সেইসঙ্গে গীতিনাট্য, গীতি আলেখ্য ও
চলচ্চিত্রেও তাঁর প্রভাব ছিল যথেষ্ট।
ব্যতিক্রমী স্বাতন্ত্র্য
নজরুলের গানে ভাষা ও
সুরের সার্থক মেলবন্ধন ঘটেছিল। তাই সামান্য লোটোগায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তিনি একাধারে
গজল, শ্যামাসংগীত, ইসলামী সংগীত, ধ্রুপদ, ভক্তিগীতি
ইত্যাদি সব ধরনের গানে অসামান্য সিদ্ধির সাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর গানের রোমান্টিক
আবেদন, উদাত্ত উদার আবেগ এবং বাংলার মাটির স্পর্শ, তাঁকে
সংগীতস্রষ্টা হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
8.2__বাংলা চিত্রকলার ধারায় নন্দলাল বসুর অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো
।
Ans :চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুযোগ্য শিষ্য আচার্য
নন্দলাল বসু নিজের চারপাশের বহমান জীবনকে ছবির বিষয় করে বাঙালির চিত্রচর্চাকে
একটা প্রসারিত ক্ষেত্র দান করলেন। গ্রামীণ প্রকৃতি, সাধারণ এবং
দরিদ্র মানুষের জীবন হয়ে উঠল তাঁর ছবির উপজীব্য।
-----------------------------------------------------
শিক্ষা ও চিত্রচর্চার সূচনা : প্রথমে দ্বারভাঙায় ও পরে
কলকাতার সেন্ট্রাল কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষা ও চিত্রচর্চার তাঁর বিদ্যার্জন।
ছেলেবেলায় কুমোরদের দেখে মূর্তি গড়ে চিত্রকলায় হাতেখড়ি। পরে নিজের আঁকা ছবি
সূচনা নিয়ে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও হ্যাভেল সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাঁরা তাঁকে
আর্ট স্কুলে ভরতি করে নে।
কর্মজীবন : রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে 1920
খ্রিস্টাব্দে নন্দলাল শান্তিনিকেতনের কলাভবনে স্থায়ীভাবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই
শিল্পশিক্ষার এক বিশেষ পদ্ধতি এই প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে তোলে। এখানে তিনি মৌলিক
রচনা, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও পরম্পরা-তিনের মিলনে তাঁর
শিক্ষানীতিকে পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন। ভারতীয় শিল্পশিক্ষায় তিনিই সর্বপ্রথম
আউটডোর স্টাডি বা নেচার স্টাডির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন । নিজের কাজের ক্ষেত্রে
তিনি গুরুর স্বচ্ছ জলরঙের ওয়াশ পদ্ধতির পাশাপাশি ঘন জলরঙের টেম্পেরার কাজ শুরু
করেন।
চিত্রসম্ভার : শান্তিনিকেতনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি
এঁকেছিলেন ‘সিদ্ধিদাতা গণেশ’ , ‘সিদ্ধার্থ’ , ‘সতী’ , ‘কৰ্ণ’ , ‘জগাই
– মাধাই’
, ‘নটরাজের তাণ্ডব’ , ‘পার্থসারথি’ ইত্যাদি ছবি।
কলাভবনে যোগ দেওয়ার পরে দিগন্তবিস্তৃত প্রান্তর, খোয়াই, মাঠে বিচরণরত
মোষ, নারী – পুরুষ, হাটযাত্রী ইত্যাদি ছিল তাঁর ছবির বিষয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য
কীর্তি ‘সহজপাঠের অলংকরণ’ , ‘গান্ধিজি’ , ‘রাঙামাটির’ পথ’ ইত্যদি।
অন্যান্য অবদান :
ভারতীয় সংবিধানের অলংকরণ, ভারতরত্ন ও পদ্মশ্রী পুরস্কারের নকশা নন্দলাল বসুর অনবদ্য
কীর্তি। ভগিনী নিবেদিতা, রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথের গ্রন্থে অলংকরণ ছাড়াও তিনি 1909
খ্রিস্টাব্দে অজন্তা গুহাচিত্রের নকল করার উল্লেখযোগ্য কাজ করেন। ‘শিল্পচর্চা’ ও ‘রূপাবলী’ তাঁর দুটি
উল্লেখযোগ্য শিল্পগ্রন্থ।
মূল্যায়ন :
পরিশেষে বলা যায় নন্দলাল বসুর শিল্পকর্মের প্রতিভার জন্য আমরা চোখ বন্ধ করে বলতে
পারি চিত্রশিল্পী হিসাবে নন্দলাল বসুর অবদান বাঙালির মনে শ্রদ্ধার সঙ্গে
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
8.3__বাংলা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নীলরতন সরকারের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা
করো ।
Ans :স্বদেশ,
বিদেশ তথা বিশ্বব্যাপী চিকিৎসাশাস্ত্রে যে-কজন বাঙালি
চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ড. নীলরতন সরকার। অত্যন্ত মেধাবী
এই ব্যক্তিত্ব শুধু অধ্যবসায়ের জোরে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে
চিকিৎসাবিজ্ঞানের জগতে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
নীলরতন সরকার প্রথমে
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন। পরে ১৯১৭ থেকে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ
পর্যন্ত কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন। এরপর ১৯২৪ থেকে ১৯২৮
খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি স্নাতকোত্তর কলা বিভাগের সভাপতি ছিলেন এবং ১৯২৮
খ্রিস্টাব্দ থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্নাতকোত্তর বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির পদ
অলংকৃত করেন। ডা. সরকার কেবল নিজে একজন বিখ্যাত ডাক্তার ছিলেন তা নয়- তিনি ডাক্তারি
পরিসেবাকে বৃহত্তর মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অগ্রণী ছিলেন। তিনি ডাক্তার
সুরেশপ্রসাদ সর্বাধিকারীর সঙ্গে কলিকাতা মেডিকেল স্কুল এবং ডা. রাধাগোবিন্দ করের
সহায়ক হিসেবে বর্তমান আর জি কর মেডিকেল কলেজটি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় সহযোগিতা
করেছিলেন।
-------------------------------------------------------
পাশ্চাত্য শিক্ষায়
শিক্ষিত চিকিৎসকদের গ্রামে গিয়ে চিকিৎসা পরিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন
অনুপ্রেরণাস্বরূপ। এ ছাড়া তিনি চিত্তরঞ্জন সেবা প্রতিষ্ঠান এবং যাদবপুর যক্ষ্মা
হাসপাতালের সভাপতি ছিলেন। এহেন চিকিৎসক একজন বিখ্যাত শিল্পোদ্যোগীও ছিলেন। তিনিই
প্রথম এদেশে দূষণমুক্ত ট্যানারি এবং সার ও সাবানের কারখানা স্থাপন করেন। তাঁর
অভিন্নহৃদয় বন্ধু ছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। ক্যালকাটা মেডিকেল ক্লাবের
প্রতিষ্ঠাতা এই বিখ্যাত চিকিৎসকের উল্লেখযোগ্য গবেষণাটি ছিল ‘সিরোসিস অফ লিভার ইন চিলড্রেন’। ড. সরকারের
সুযোগ্য শিষ্য ছিলেন ড. বিধানচন্দ্র রায়। ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে তিনি
রবীন্দ্রনাথের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন।
8.4__বাংলা চলচ্চিত্রের ধারায় পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের অবদান আলোচনা
করো ।
Ans :বাংলা
চলচ্চিত্রের ধারায় সত্যজিৎ রায়ের অবদান অসামান্য। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ধারায়
এক মাইল ফলক রূপে পরিগণিত হন। শুধু বাংলা নয় তিনি সমস্ত বিশ্বের চলচ্চিত্রে এক
মর্যাদার সম্মান দাবি করেন। 1955 সালে তার কৃতকর্ম কান ফ্লিম ফেস্টিভালে আন্তর্জাতিক
পুরষ্কার পায়, এবং ভারত সরকার তাকে সিনেমার শ্রেষ্ঠ প্রযোজক এর কারণে ভারতরত্ন উপাধিতে ভূষিত করেন পথের পাঁচালী ছিল তার জীবনের প্রথম অভিজ্ঞান। গ্রাম্য
জীবনের রহস্যে ঘেরা পথের পাঁচালী ছিল উদার মানবিক জীবনের এক প্রতিচ্ছবি। সেই কারণে
এই সিনেমা দেশ ছেড়ে ইউরোপে এমন কি আমেরিকাতেও জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো।
পথের পাঁচালীর অপুর
কাহিনী কে সম্পূর্ণ করার জন্য তিনি পরবর্তী সময়ে প্রযোজনা করেন - অপরাজিত,
অপুর সংসার, এই সিনেমা দুটিকে। এছাড়াও তার কয়েক্তি বিখ্যাত সিনেমা হলো -
নায়ক, জলসাঘর, দেবী, তিন কন্যা, কাঞ্চনজঙ্ঘা, মহানগর, গুপিগাইন বাঘাবাইন, অরণ্যের দিনরাত্রি,
প্রতিদ্বন্দ্বী, ওসনি সংকেত, ও আগন্তুক ইত্যাদি। জীবিত সময় কালের মধ্যে সত্যজিৎ রায় প্রায় 36 টি সিনেমা তৈরি
করেছিলেন। বিচিত্র বিষয়ের সমাহারে তিনি যে নতুন সিনেমার নতুন ধারণা সৃষ্টি
করেছিলেন সেই কারণেই তিনি আজও সিনামে জগতে স্বতন্ত্র হলে আছেন। 1992 সালে সত্যজিৎ
রায় অস্কার বিজয়ী পরিচালক হিসাবে স্বীকৃতি পান। পরবর্তী কালের কিছু বিখ্যাত
পরিচালক - আইভরি, আব্বাস কাইরস্তমি, ইলিয়ানাক জল প্রমুখ তাকে অনুসরণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়।
ভাষা ।
9 দাগের পশ্ন।
9.1__”ভাষা বিজ্ঞান কী ? ভাষা
বিজ্ঞানের বহুল প্রচলিত শাখা কিয়টি ও কী কী ?শাখাগুলির
সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ।
Ans : ভাষাবিজ্ঞান হলো ভাষার বিজ্ঞান অর্থাৎ ভাষা নিয়ে বিজ্ঞান
সমস্ত আলোচনা করে যে গ্রন্থ থেকে তাকে বলে ভাষাবিজ্ঞান ।
ভাষাবিজ্ঞানের আলোচনা নানান রকমের হতে পারে ।
কিন্তু তার মধ্যে বহুল প্রচলিত শাখা গুলি হলো তিনটি ।
-------------------------------------------------------
যথা ( ক ) তুলনামূলক
ভাষাবিজ্ঞান । ( খ ) ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান । ( গ ) বর্ণনামূলক ভাষাবিজ্ঞান ।
তুলনামূলক
ভাষাবিজ্ঞান : তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞান এর সূত্রপাত করেছিলেন স্যার উইলিয়াম জোস ।
১৭৮৬ সালে কলকাতার রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটি তৃতীয় বার্ষিক প্রতিষ্ঠা দিবস
উপলক্ষ্যে প্রদত্ত ভাষণে তুলনামূলক ভাষা তত্ত্বের উপরে আলোকপাত করেন । ভারতবর্ষের
সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক সূত্র সন্ধানে উইলিয়াম জোন্স ভাষাকে একমাত্র মাধ্যম রূপ
দেখেছিলেন । তার মনে হয়েছিল ইন্দো – ইউরোপীয় ভাষার বিজ্ঞান এর উৎপত্তি হয়েছিল সংস্কৃত ,
গ্রীক , লাতিন ইত্যাদি থেকে ।
সুনীতিকুমার
চট্টোপাধ্যায় লেখেন ‘ The Origin and Development of the
Bengali Language ‘ বা ODBL
নব্য ভারতীয় আর্যভাষার তুলনামূলক অভিধান রচনা করেন R.L.
TARNANE . তুলনামূলক
ভাষাতত্ত্বের কাজ হলো
( ক ) সমগোত্রজ ভাষাগুলির মধ্যে তুলনা করা । ( খ
) মূল ভাষাকে ভাষাপূর্ণ নির্মাণ করা । ( গ ) বিভিন্ন ভাষার মধ্যে সাদৃশ্য চিহ্ন
করা ।
ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান
: ভাষাবিজ্ঞানের যে শাখায় কোনো প্রচলিত রূপ ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান । থেকে আধুনিক
রূপ পর্যন্ত ধারাবাহিক বিবর্তনের রূপরেখা আলোচিত হয় তাকে বলে এইতিহাসিক
ভাষাবিজ্ঞান ।
তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞানের সঙ্গে এই শাখার
পার্থক্য বেশ সুস্পষ্ট । তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞান যেখানে বিভিন্ন শাখার মধ্যে তুলনা
করে সেখানে ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা কীভাবে বিভিন্ন স্তর
যেমন- পালি , প্রাকৃত , অপভ্রংশ , অবহট্টের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা জন্ম নিয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করে । সময়ের
সঙ্গে সঙ্গে ভাষার যে বিবর্তন হয় এবং সেই বিবর্তনের ফলে যে পরিবর্তন ভাষার সংগঠনে
দেখা যায় তা নির্দেশ করাই ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞানের কাজ । বিশেষ করে শব্দ ও
পদমধ্যস্থ ধ্বনি পরিবর্তন ভাষার কালগত রূপান্তরের অন্যতম কারণ । ঐতিহাসিক
ভাষাবিজ্ঞান এই ধ্বনি পরিবর্তনের কারণ ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বনিপরিবর্তন যে ভাষার
মধ্যে ক্রিয়া করে তা অনুসন্ধান করে ।
9.2__”বাক্য বলতে কি বোঝো ? গঠনগত দিক থেকে বাক্য কয় প্রকার ও কী কী ? ভাগগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয়
দাও ।
Ans: বাক্য শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কথ্য বা কথিত বিষয়। যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি বক্তার কোন মনোভাবকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে।
1) সরল বাক্য
২) জটিল বাক্য
৩) যৌগিক বাক্য
১) সরল বাক্য
যে বাক্যে একটিমাত্র
কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য
বলে। যথা- পুকুরে পদ্মফু জন্মে। এখানে ‘পদ্মফুল’ উদ্দেশ ̈ এবং ‘জন্মে’ বিধেয়। এ রকম
কিছু উদাহরণ :
-----------------------------------------------------
বৃষ্টি হচ্ছে।
তোমরা বাড়ি যাও।
ধনীরা প্রায়ই কৃপণ হয়।
মিথ্যাবাদীকে কেউ ভালবাসে না।
শিক্ষিত লোকেরা অত ̈ন্ত বুদ্ধিমান।
ধনীরা প্রায়ই কৃপণ হয়।
মা শিশুকে ভালোবাসে।
হযরত মোহাম্মদ (স.) ছিলেন একজন আদর্শ মানব। স]
সরল বাক্যে একটিই সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। একটি সরল বাক্যে
একটি বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন- কেহ কহিয়া না দিলেও (অসমাপিকা
ক্রিয়া) তপোবন বলিয়া বোধ হইতেছে (সমাপিকা ক্রিয়া)।
সরল বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য থাকতে পারে। যেমন- জ্ঞানী লোক
সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
সরল বাক্যের ভেতরে কোন খণ্ডবাক্য বা একাধিক পূর্ণবাক্য থাকে
না। যেমন- চেহারা নিষ্প্রভ হলেও তার মুখাবয়বে একটা পরিতৃপ্তির আভা ছিল
২) জটিল বাক্য
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও তাকে আশ্রয় বা অবলম্বন
করে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে,
তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। যেমনঃ
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। (প্রথম অংশটি
আশ্রিত খণ্ডবাক্য, দ্বিতীয়টি প্রধান খণ্ডবাক্য)
যত পড়বে,/
তত শিখবে,/
তত ভুলবে। (প্রথম দুটি অংশ আশ্রিত খণ্ডবাক্য শেষ অংশটি
প্রধান খণ্ডবাক্য)
সে যে অপরাধ করেছে তা মুখ দেখেই বুঝেছি
যিনি পরের উপকার করেন তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে
জটিল বা মিশ্র বাক্য চেনার সহজ উপায়
জটিল বা মিশ্র বাকে
একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে। এদের মধ্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য এবং অন্যগুলো সেই
বাক্যের উপর নির্ভর করে। যেমনঃ যেহেতু তুমি বেশি নম্বর পেয়েছ, সুতরাং তুমি
প্রথম হবে।
অধিকাংশ জটিল বাক্যে প্রতিটি খণ্ডবাক্য এর পর কমা (,) থাকে।
যথা- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও নিত্য সম্বন্ধীয় যোজক যোগ
করতে হয়। যথা-
সাপেক্ষ সর্বনাম : যে….সে, যা….তা, যিনি….তিনি, যারা…. তারা।
যেমনঃ যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
নিত্য সম্বন্ধীয় যোজক: যখন…. তখন, যেমন…. তেমন, বরং…. তবু, যেইনা….অমনি, যেহেতু….সেহেতু/সেজন ̈। যেমনঃযখন বিপদ
আসে, তখন দুঃখও আসে।
৩) যৌগিক বাক্য
একাধিক সরল বাক্য কোন অব্যয় দ্বারা সংযুক্ত হয়ে একটি
বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমনঃ
তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি। (সরল বাক্য
দুটি- তার বয়স হয়েছে, তার বুদ্ধি হয়নি)
সে খুব শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান। (সরল বাক্য দুটি- সে খুব
শক্তিশালী, সে খুব বুদ্ধিমান)
ধনীদের ধন আছে, কিন্তু তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
বুঝে শুনে উত্তর দাও নতুবা ভুল হবে।
এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।
সে আসতে চায়, তথাপি আসতে পারে না।
তাঁর বুদ্ধি হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি
পাকেনি।
সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
---------------------------------------------------
যৌগিক বাক্য চেনার সহজ উপায়
যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো আর, এবং, ও, বা, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি, তবে, তবে কি না, নতুবা, তবু, হয়..নয়, হয়.. না হয়, কেন..না, তত্রাচ, অপিচ প্রভৃতি
অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। তবে
কোন অব্যয় ছাড়াও দুটি সরল বাক্য
প্রবন্ধ ।
10. দাগের প্রশ্ন ।
10.1__বাংলার উৎসব ।
ভূমিকা :
বাঙালির ভাগ্যাকাশে
দুর্যোগের ঘনঘটা বারবার ঘনিয়েছে ।দুর্ভিক্ষ, মহামারী কিংবা
দৈব দুর্বিপাক বারবার বিপন্ন করেছে বাঙালি জীবনকে ।তবুও বাঙালির আনন্দ স্রোতে ভাটা
পড়েনি ,ম্লান হয়নি বাঙালির উৎসব প্রিয়তা ।কারণ বাঙালি উৎসব
প্রিয় জাতি ।
উৎসব কি :
উৎসব মানে আনন্দ, উচ্ছাস; ভেদাভেদ নয়।
উৎসব মানে প্রকৃত স্বর্গের নীড় রচনা; উৎসব মানে বিবেক , প্রীতি, প্রেম,উৎসব মানে
মনুষত্ববোধের জাগরণ।
কল্যাণী ইচ্ছাই উৎসবের প্রাণ :
“বাঙালি ঘরকুনে” এ অপবাদ আমাদের
সকলেরই জানা কিন্তু তাই বলে বাঙালি কখনই
আত্মকেন্দ্রিক নয়। আত্মকেন্দ্রিক মানে আপনাতে আপনি বদ্ধ।
কিন্তু বাঙালি যদি আপনাতে আপনি বদ্ধ হতো তাহলে বাঙালির বারো
মাসে তেরো পার্বণ হতনা। আমার আনন্দে সকলের আনন্দ হোক,আমার আনন্দ আরো
পাঁচ জন উপভোগ করুক – এই কল্যাণী ইচ্ছাই হলো উৎসবের প্রাণ।সকল বাঙালির মনে এই
ইচ্ছে আছে বলেইসবাই মিলেমিশে উৎসবে মেতে উঠে।
উৎসবের শ্রেণীবিভাগ :
বাঙালির উৎসবগুলিকে মূলত তিনভাগে ভাগ করা যায় -(১)ঋতু উৎসব
(২)ধর্মীয় উৎসব (৩)সামাজিক -পারিবারিক উৎসব (৪)জাতীয় উৎসব ।
(ক) ঋতু উৎসব :
বাংলা ঋতুরঙ্গশালায় বিভিন্ন রঙ্গের আবির্ভাব বাঙালির জীবনে
নিয়ে আসে বিভিন্ন উৎসবের সমাহার ।নতুন বছরের আগমনে উদযাপিত হয় নববর্ষ।
এরপরে একেএকে উদযাপিত হয় নবান্ন ,পৌষপার্বন, মাঘোৎসব,দোলযাত্রা
প্রভৃতি।
রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে বৃক্ষরোপন,বর্ষামঙ্গল,বসন্তোৎসব
প্রভৃতি গুরুত্ব সহকারে উদযাপিত হয়।রবীন্দ্রনাথের ধারা অনুসরণ করে এখন
শান্তিনিকেতনের বাইরেও এই উৎসবগুলি উদযাপিত হয়।
(খ) ধর্মীয়উৎসব
:
-----------------------------------------------------
নানান সম্প্রদায়ের বাস এই বাংলায়।সকল সম্প্রদায়ই আপন আপন
ধর্মীয় উৎসবে মেতে ওঠে।হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা ।
শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের
জন্যে জাতিধর্ম নির্বিশেষে বাঙালি উৎসবে মেতে ওঠে ।
এরপরেই একেএকে আসে
লক্ষীপূজা,কালীপূজা,জগদ্ধাত্রী পূজা, সরস্বতী পূজা প্রভৃতি।এছাড়াও
মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ,মহরম,সবেবরাত এবং ক্রিস্টিয়ানদের বড়োদিন,গুডফ্রাইডে
শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়।
(গ) সামাজিক
-পারিবারিক উৎসব :
মানুষ সামাজিক জীব।ব্যক্তিগত আনন্দ উৎসবকে সে ভাগ করে নিতে
চায় আর পাঁচজনের সঙ্গে ।
বিবাহ,অন্নপ্রাশন,জন্মদিন, উপনয়ন,ভ্রাতৃদ্বিতীয়া -এই পরিবারকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানগুলিও শেষ
পর্যন্ত বাঙালির সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে ।
এগুলির মধ্যে দিয়ে আত্মীয়স্বজন ,বন্ধুবান্ধব
এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গেও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।সুদৃঢ় হয় সামাজিক বন্ধন।
(ঘ) জাতীয় উৎসব
:
বিভিন্ন রকম জাতীয় উৎসবে বাঙালি মুখরিত হয় যেমন ২৩ শে জানুয়ারি নেতাজীর জন্মদিন, ২৬ শে
জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস, ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস, ১৪ নভেম্বর
শিশু দিবস, 2 অক্টোবর মহাত্মা স্মরণে, ৫ই সেপ্টেম্বর
শিক্ষক দিবস, ১৪ই এপ্রিল আম্বেদকর দিবস প্রভৃতি।
বাঙালি প্রাণের ঐতিহ্য রবীন্দ্র জন্মোৎসবকে জাতীয় উৎসবের
মর্যাদা প্রদান করেছে। সর্বজাতিক ভারতের চরিত্রধর্মে ঐক্যবদ্ধবাঙালিও। তাই এই
বিভিন্ন রকম উৎসব পালনে তার জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রকাশিত হয়।
উৎসবের একাল ও সেকাল :
বর্তমানে উৎসব বলতে বোঝানো হয় আলোকসজ্জা, মন্ডপসজ্জা, জাকজমক। এতে
নেই কোন প্রাণ বন্দনা, নেই কোন আন্তরিকতা, নেই কোন প্রীতি
প্রেমের পণ্য মন।অথচ পূর্বে উৎসব বলতে বোঝানো হতো সত্যিকারের আন্তরিকতা। আলোকসজ্জা
বা জাঁকজমক না থাকলেও সমর উৎসব মা নেই ছিল প্রীতি ও প্রেমের মায়াবী বন্ধন।
উৎসবের মধ্য দিয়েই মিলন :
ব্যাক্তিগত দুঃখ কষ্ট ভুলে সবার সাথে আনন্দে মেতে ওঠায়
উৎসবের প্রধান উদ্দেশ্য।উৎসবানুষ্ঠান নিবার্ধ মেলামেশার সুযোগ করে দেয় আমাদের।
উৎসবের ময়দানে জাতি ধর্ম অর্থ গত ভেদাভেদের কোনো কোনো
প্রাচীর থাকেনা। পারস্পরিক আনন্দ প্রীতি বিনিময়ের মধ্য দিয়েই রচিত হয় সুন্দর
সুন্দর বন্ধুত্ব।
জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের এই আনন্দে মেতে ওঠা বাঙালির
উৎসব পালনকে করে তোলে স্বার্থক।
উপসংহার :
উৎসবের মূল চেতনা হল মানুষের কল্যাণ সাধন ।দৈনন্দিন জীবনের
তুচ্ছতা ,গতানুগতিকতা থেকে
-------------------------------------------------------
মুক্তি পেতে মানুষের মন সততই আকুল ।উৎসব মানুষের জীবনের এই
চাহিদাকে পুরন করে।উৎসব মিলন ও শান্তির বাণী বহন করে ।নিজস্বতা ,বৈচিত্র্য ও
আড়ম্বরে সমৃদ্ধ বাংলার উৎসব বাঙালির জীবনকে করেছে আনন্দময় ও পরিপূর্ণ।
10.2__বর্তমান সমাজে নারীর ভূমিকূমিকা।
নারী হলো সৃষ্টির
প্রতীক। সৃষ্টির অস্তিত্ব নারী ছাড়া কল্পনায় আনা যায় না। নারীদের অবদান নিয়ে তো
রয়েছে অনেকের মুখেই জয়জয়কার। নারীদের অধিকার আদায় নিয়েও এখন সিংহভাগ মানুষ সচেষ্ট।
এমনকি নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা যথাযথভাবে হয়েছে বলেও দাবি করেন অনেকেই। হঁ্যা, অধিকার
প্রতিষ্ঠা অনেকটাই হয়েছে। তবে সম্পূর্ণরূপে হয়েছে কি? অতীতের সঙ্গে
বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলনা করে বলা যায়, অতীতে এমন এক সমাজও ছিল যেখানে
নারীদের মূল্যায়ন করা তো দূরের কথা,
'নারী'-তে পরিণত হওয়ার আগেই সমাজ তাদের দিকে ছুড়ে দিত এক প্রতিকূল
পরিবেশ। কন্যাসন্তান জন্ম হয়েছে? এটা ছিল সেই জন্মধাত্রী মায়ের জন্য অভিশাপস্বরূপ। কন্যাশিশু
নামক সেই ভবিতব্য নারীকে জন্ম দেওয়ার জন্য অনেক লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হতে হতো মা
নামক নারীকে। এক অর্থে, অঙ্কুর থেকে পরিপূর্ণ নারীরূপে প্রস্ফুটিত হওয়াটাই সেই
নারীসত্তার জন্য ছিল একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। কিন্তু বর্তমান সমাজব্যবস্থা আমরা
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সম্পূর্ণভাবে সক্ষম বলে দাবি করি। করব না-ই বা কেন? স্বামী মারা
গেলে মেয়েদের এখন আগুনে ঝলসে তীব্র মৃতু্যযন্ত্রণা অনুভব করতে হয় না কিংবা বিধবা
বলে তাকে সমাজে সম্মানহারা হতে হয় না, এমনকি নিজের ভালোমন্দ বোঝার আগেই
অন্যের ভালো থাকার দায়িত্ব নিতে হয় না। এক কথায়, এখন সতীদাহ
প্রথা নেই, বাল্যবিয়ে নেই, মেয়েদের পায়ে উন্নতি রোধের শিকল
বাঁধা নেই, বিধবা বিয়েরও বিরুদ্ধাচরণ করা হয় না। এমনকি অনেক দেশেই নারী
নেতৃত্ব প্রাধান্য পাচ্ছে। সেগুলো তো সবার চোখেই পড়ে। তাহলে নারীরা পুরুষের থেকে
অধিকার আদায়ে কোনো অংশে পিছিয়ে আছে একথা বলার অবকাশ নেই। তবে খানিকটা সূক্ষ্ণ
দৃষ্টিপাত করলেই এখনো নারী-পুরুষের অধিকারের মধ্যে যে একটা অদৃশ্য পর্দা বিরাজমান
সেটা অবলোকন করা যায়। ছেলে ভবিষ্যতে বড় হয়ে অর্থোপার্জন করে পরিবার চালাবে, মেয়েরা তো পরের
ঘরের বাসিন্দা। তাদের এত পড়াশোনা করার দরকার কী? মেয়ে বিয়ে দিতে
গেলে পাত্রপক্ষ 'কিছুই দাবি নেই' এই ছোট্ট এক বাক্যের মধ্যেও
অসংখ্য দাবি ঢুকিয়ে দেন। যাকে বলা চলে যৌতুক। আরও সুন্দরভাবে বলা যায় ডিজিটাল
ভিক্ষা। এরপর আসে বিয়ের পরের কথা। যদি পিতৃগৃহে শিক্ষা অর্জন করে শিক্ষিত হয়েও
নারী শ্বশুরবাড়িতে আসে, অনেক ক্ষেত্রে সেখানেও তার চাকরি করার সুযোগ মেলে না। কারণ
এখনো অনেক শিক্ষিত পরিবারেই একটা অশিক্ষিত চিন্তাধারা বিরাজ করে। সেটা হলো, ঘরের বউ বাইরে
চাকরি করতে গেলে সংসার সামলাবে কে। আর বাচ্চারা তো বিনা শাসনে উচ্ছন্নে যাবে।
নিরাপত্তা প্রত্যেকের জন্যই একটি মৌলিক অধিকার। সেটা জীবনের হোক, কিংবা
সম্মানের। বাসা থেকে একা বের হওয়া কিংবা একটু রাত করে বাসার বাইরে থাকলে যেন
অভিভাবকদের নাভিশ্বাস উঠে যায়। চিন্তার ছাপ তাদের চোখে-মুখে লেপ্টে থাকে। তাদের
মেয়েটা ঠিক আছে কিনা, নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারবে কিনা, এসব নিয়ে ভাবতে
ভাবতেই তারা কূল-কিনারা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু উপরোক্ত একটা প্রতিবন্ধকতাও কি কোনো
পুরুষের মোকাবেলা করতে হয়? এই সমাজব্যবস্থা কি সত্যিকার অর্থে নারীদের অধিকার
বাস্তবায়ন করতে পেরেছে? নাকি সেটা শুধুমাত্র লিখিত এবং
------------------------------------------------------
মৌখিকভাবে জাহির
করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যায়।
10.3__বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন
কিংবদন্তি ভারতীয় কবি। তদুপরি, তিনি একজন মহান দার্শনিক , দেশপ্রেমিক , চিত্রশিল্পী
এবং মানবতাবাদীও ছিলেন । লোকেরা প্রায়শই তাঁর সম্পর্কে গুরুদেব শব্দটি ব্যবহার
করে। এই ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর
প্রাথমিক শিক্ষা বিভিন্ন শিক্ষকের দ্বারা বাড়িতেই হয়েছিল। এছাড়াও, এই শিক্ষার
মাধ্যমে তিনি অনেক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তাঁর উচ্চশিক্ষা ইংল্যান্ডে হয়।
সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটবেলা থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রবন্ধ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ষোল বছর বয়স থেকে নাটক লিখতে শুরু করেন।
বিশ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাল্মীকি প্রতিভা রচনা করেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুরের কাজকর্মের উপর নয়, অনুভূতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। 1890
সালে তিনি আরেকটি নাটক রচনা করেন বিসর্জন। বিসর্জন সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
সেরা নাটক।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবশ্যই উপন্যাসের সাথেও ছিলেন। তিনি আটটি
উল্লেখযোগ্য উপন্যাস লিখেছেন। এছাড়া তিনি চারটি উপন্যাস লিখেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ কাব্য সংকলন গীতাঞ্জলি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1913 সালে গীতাঞ্জলির
জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। তদুপরি, তার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ
কাব্যগ্রন্থ হল মানসী, সোনার তরী এবং বলাকা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবশ্যই গানে কম ছিলেন না। লোকটি একটি
শক্তিশালী 2230 গান লেখার খ্যাতি উপভোগ করে। ব্যবহারে জনপ্রিয় নাম
রবীন্দ্রসংগীত, যা ঠাকুরের গানকে বোঝায়। তার গান অবশ্যই ভারতীয় সংস্কৃতির
প্রতিফলন ঘটায় । তার বিখ্যাত গান আমার সোনার বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ।
সর্বোপরি তিনি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত জনগণ মন লিখেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি আঁকা ও চিত্রকলায়ও চমৎকার দক্ষতা
ছিল। সম্ভবত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লাল-সবুজ বর্ণান্ধ ছিলেন। এই কারণে, তার শিল্পকর্মে
অদ্ভুত রঙের থিম রয়েছে।
500
টিরও বেশি প্রবন্ধের বিষয় এবং ধারণাগুলির বিশাল তালিকা পান
রাজনীতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি
-------------------------------------------------------
ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের সম্পূর্ণ সমর্থনে ছিলেন। তদুপরি, তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরোধী ছিলেন । তাঁর কাজ মানস্তে তাঁর
রাজনৈতিক মতামত রয়েছে। তিনি বেশ কিছু দেশাত্মবোধক গানও লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুর ভারতের স্বাধীনতার প্রেরণা বাড়িয়েছিলেন। তিনি দেশপ্রেমের জন্য কিছু রচনা
লিখেছেন। এ ধরনের কাজের প্রতি জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক ভালোবাসা ছিল। এমনকি
মহাত্মা গান্ধীও এই কাজের জন্য তার অনুগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুর তার নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। তদুপরি, তিনি 1919
সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ।
পরিশেষে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন
দেশপ্রেমিক ভারতীয়। তিনি অবশ্যই বহু প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। সাহিত্য, শিল্পকলা, সঙ্গীত ও
রাজনীতিতে তার অবদান উজ্জ্বল।
10.4__স্বামী
বিবেকানন্দ।
ভূমিকা
“হে
বীর, সাহস
অবলম্বন করো, সদর্পে বল আমি ভারতবাসী, ভারতবাসী আমার ভাই”
এই বাণী মৃতপ্রায় জাতিকে যিনি শুনিয়েছেন,
তিনি ভারত আত্মার মূর্ত প্রতীক বীর সন্ন্যাসী স্বামী
বিবেকানন্দ। প্রেমের ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয়তম শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ
ভারতের গৌরব সূর্য যার আলোকছটায় সমগ্র ভারত তথা পৃথিবী আলোকিত।
জন্মপরিচয় স্বামী
বিবেকানন্দ ১৮৬৩ সালে ১২ই জানুয়ারী উত্তর কলকাতার সিমলা পাড়ায় দত্ত পরিবারে
জন্মগ্রহণ করেন,তাঁর মাতা ছিলেন ভুবনেশ্বরী দেবী এবং পিতা বিশ্বনাথ দত্ত পেশায় একজন উকিল
ছিলেন।
বাল্যকাল ও শিক্ষা
বিবেকানন্দের আসল নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। ডাকনাম ছিল বিলে।
ছোটোবেলায় নরেন খুব চঞ্চল ও দুরন্ত স্বভাবের ছিলেন,
বিবেকানন্দ উত্তর কলকাতার সিমলা মেট্রোপলিটন স্কুল থেকে
প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে দর্শন
নিয়ে বিএ পরীক্ষায় পাশ করেন। এরপর আইন পড়ার সময় তাঁর পিতার মৃত্যু হওয়ায় তা
আর শেষ করা হয়নি। ছোট থেকেই তাঁর বই পড়ার এক অদম্য নেশা ছিল,
দর্শন, ধর্ম, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, শিল্পকশা ও সাহিত্য বিষয় ছিল তাঁর খুব প্রিয়,
এছাড়াও বেদ, উপনিষদ, ভগবদ্গীতা, রামায়ন, মহাভারত, পুরান, সঙ্গীত, খেলাধুলাতেও ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ।
শ্রীরামকৃষ্ণের সান্নিধ্যলাভ
প্রতিবেশী সুরেদ্ৰনাথ মিত্রের বাড়ি ধর্মমূলক গান গাইবার
জন্য ডাক পেয়েছিলেন নরেন্দ্র নাথ আর সেখানেই হয়েছিল শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের
সাথে তাঁর এথম সাক্ষাৎ, প্রথম দর্শনেই অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন নরেন্দ্রনাথ।
রামকৃষ্ণদেবের সান্নিধ্যে এসে নরেন ঈশ্বরমুখী হয়ে ওঠেন,
ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের সন্ন্যাস ব্রতে দিক্ষা দিয়ে তাঁর নতুন
নামকরণ করেন “স্বামী বিবেকানন্দ”।
কর্মজীবন ও আদর্শ
শ্রী রামকৃষ্ণদেবের তিরোধানের পর ভারত পথিক বিবেকানন্দ ভারত
পর্যটনে বেরিয়ে পরিক্রমা করলেন হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা। মিশলেন হিন্দু,
-------------------------------------------------------
সলিম, চণ্ডাল, সাধারণ মানুষের সঙ্গে অনুভব করলেন নিযাতিতা মানুষের হৃদয়ের
যন্ত্রনা। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন”মানুষের মধ্যেই ভগবান বাস করেন”
তাই তিনি বলেন – “জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর,
”তাঁর ধর্মসাধনার মূল কথা ছিল মানবমুক্তির সাধনা। তিনি
বেদান্তের সমুদ্র মন্থন করে প্রচার করলেন বৈদান্তিক সা্ম্যবাদ,
এই সামবাদ শ্রেণীহীন,
বর্ণহীন সমাজ
প্রতিষ্ঠার সোপান। “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”।
স্বামীজির শিকাগো ভাষণ
১৮৯৩ খ্রী আমেরিকার শিকাগো শহরে মহাধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা
দেবার জন্য আহ্বান পান। গেরুয়া পোশাক পরিধান ও সন্ন্যাসীর বেশে তিনি পৌঁছান
শিকাগো শহরে ,ধর্মসভার মঞ্চে উঠে শ্রোতাবর্গকে সম্বোধন করেন –
“আমেরিকাবাসী ভাই ও বোনেরা “মুহূর্তে উচ্ছ্বসিত করতালির ধ্বনিতে অভিনন্দিত হলেন পাচ্যের
এই বীর সন্ন্যাসী। তিনি বলেন আধাত্মিকতা, পবিত্রতা কোন ধর্মসম্প্রদায়ের একচেটিয়া নয়,
তিনি বলেন সামঞ্জস্য ও শান্তির কথা,
প্রশংস্নসামুখর হন শ্রোতামণ্ডলিরা। এরপর স্বামীজি আমেরিকা ও
ইংল্যান্ডের নানা স্থানে বেদান্ত দর্শন ব্যাখ্যা করে বেড়ান,
অনেকেই তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন
ভগিনী নিবেদিতা।
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা
১৮৯৬ খ্রী: স্বদেশে ফিরে বিকোনদ পরমুখাপেমী পরানুকরণ-প্রিয়
ভীরু ভারতবাসীকে নবজীবনের আদর্শে অনুপ্রানিত ও আত্মশক্তিতে বলীয়ান করার ব্রত
নিয়ে গড়ে তুললেন একদল আদর্শ সন্ন্যাসী। ১৮৯৭ খ্রী প্রতিষ্ঠা করলেন মানবসেবার
অন্যতম প্রতিষ্ঠান ”রামকৃষ্ণ মিশন” ১৮৯৯ খ্রী:- গঙ্গার পশ্চিমতীরে প্রতিষ্ঠা করেন পুন্য
পীঠস্থান”বেলুড় মঠ” মানব সেবা, বেদান্ত দশন, এবং রামকৃষ্ণের শিক্ষা প্রচারই ছিল মিশন প্রতিস্থার মূল উদ্দেশ্য,
দয়া নয় সেবার মধ্য দিয়ে তিনি ঈশ্বর প্রাপ্তির পথ
দেখিয়েছিলেন।
সাহিত্যকীর্তি
শুধু কর্মজগৎই নয়,
চিন্তা ও মননশীলতার ক্ষেত্রে স্বামীজি মানবতার বাণী প্রচার
করে গেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি হল –“পরিব্রাজক”,”প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য”,
“বর্তমান ভারত” প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য তিনি স্বপ্ন দেখতেন সমৃদ্ধ,
শিক্ষিত, সংস্কারহীন ভারতবর্ষের,
ভারতবর্ষই ছিল তার শৈশবের শিশুশয্যা,
যৌবনের উপবন আর বার্ধক্যের বারানসী। তিনি বলতে শিখিয়েছেন –
“ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষ আমার ভাই,
আমার রক্ত। ভারতের কল্যান আমার কল্যাণ,
ভারতের দীনতা আমার অপমান”।
উপসংহার
অত্যাধিক পরিশ্রম আর নিরলস কর্মসাধনায় স্বামীজির শরীর ভেঙে
পড়ে। ১৯৫২ সালের ৪ঠা জুলাই মাত্র ৩৯ বছর বয়সে বেলুড় মঠে তিনি চিরনিদ্রায়
অভিভূত হন। স্বামীজির জন্মদিবস সারা ভারতবর্ষে “জাতীয় যুব দিবস” হিসাবে পালিত হয়, বিবেকানন্দ ছিল জাতির গৌরব,
সেবধিসের মূর্ত প্রতীক,
যুবশক্তির কাছে মৃত সঞ্জীবনী মন্ত্র তাই স্বামী বিবেকানন্দই
ভারত আত্মার জোতিময় বিগ্রহ, ছিলেন নবযুগের প্রাণপুরুষ।